খুঁজুন
সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১

গাজীপুরে বনের জমিতে ব্যক্তিগত প্রভাব ও অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দেড় শতাধিক কারখানা

সময় ৭৫ ডেস্ক রিপোর্টঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ মে, ২০২৪, ৭:২১ পিএম
গাজীপুরে বনের জমিতে ব্যক্তিগত প্রভাব ও অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দেড় শতাধিক কারখানা

ব্যক্তিগত প্রভাব এবং অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যক্তিগত জমির সঙ্গে থাকা বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম লিমিটেড (বিবিএস) কেবলের বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। ২০১৭ সালে কারখানা নির্মাণের জন্য গাছপালা কেটে সাতখামাইর ফরেস্ট বিটের তেলিহাটি মৌজার আরএস ২৯২৩, ২৯২৪ ও ২৯২৫ দাগের ১.৬১ একর সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে নামি এই কেবল প্রতিষ্ঠানটি। দখল করা ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত আড়াই কোটি টাকা। বন বিভাগ দখল করা ওই জমি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি।

এরই মধ্যে নতুন করে কারখানার মূল ফটকের সামনে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসনাইন ওরফে হাসান বনের জমি দখল করে নির্মাণ করেছেন মার্কেট। ওই মার্কেট থেকে মাসে ভাড়া তুলছেন ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে গাজীপুর সদরের নলজানী এলাকার অভিজাত ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার মাসিক আয় কোটি টাকার বেশি। শীত, গ্রীষ্ম এমনকি হরতাল-অবরোধেও এই রিসোর্টের ভিলা খালি থাকে না।৯-১০ বছর আগে নির্মাণের সময় ভাওয়াল রিসোর্টের পাশে থাকা সংরক্ষিত বনের বাড়ইপাড়া মৌজার এসএ সিএস ৩, ২৭৯ ও ২৭১ দাগের ৩.৬৮ একর জমি দখল করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় বন বিভাগ গ্রিনটেক রিসোর্টের দখল থেকে জমি উদ্ধারের জন্য গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ মামলা করে। কিন্তু সেই জমি এখনো উদ্ধার হয়নি।

এভাবে গাজীপুরে সংরক্ষিত বনের জমিতে কারখানা, খামার, আলিশান রিসোর্ট, পিকনিক ও শুটিং স্পট নির্মাণ করে বছরে শতকোটি টাকার বাণিজ্য করছে পৌনে দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান।

ব্যক্তিগত প্রভাব এবং অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যক্তিগত জমির সঙ্গে থাকা বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংরক্ষিত বনে বা বন ঘেঁষে তৈরি করা এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, গাজীপুরের শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৩২১ একর বনের জমি অবৈধ দখল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৫০০ একর জমি। গত এপ্রিল মাসে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে মাত্র ৮.৭৯ একর বনভূমি।

অবশিষ্ট ভূমি রিসোর্ট, বাড়িঘর-দোকানপাট, হাটবাজার ও কৃষিজমি হিসেবে দখল করা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়িঘর তৈরি করে ২৩ হাজার ব্যক্তি দখল করেছে ১০ হাজার একরের বেশি বনভূমি। এতে বনভুমি উজাড় হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। অথচ এই আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বন বিভাগের। বরং নানা ফন্দিতে নতুন করে দখল হচ্ছে বনভূমি।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, শ্রীপুরে ধনুয়া মৌজায় আরএকে সিরামিকস চার একর, রশোওয়া স্পিনিং মিল চার একর, ডিবিএল সিরামিকস আট একর, অটো স্পিনিং মিলস ২.২০ একর, সাতখামাইর মৌজায় আকন্দ গার্ডেন ১৬ একর, রিফাত ব্যাগ ২৫ শতক, পটকা মৌজায় ট্রেড ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন ৭.৬৪ একর, কেওয়া মৌজার মিতা টেক্সটাইল ২.২০ একর, মেঘনা কম্পোজিট ৪০ শতাংশ, জোবায়ের স্পিনিং এক একর, ওমেগা সুয়েটার এক একর, সোলার সিরামিকস ৯০ শতাংশ, ইকো কটন ৪.৮৬ একর, ভাওয়াল ইন্ডাস্ট্রিজ দুই একর, অনটেক লিমিটেড ৪.৯৪ একর, হাউআর ইউ টেক্সটাইল এক একর, অরণ্যকুটির ২.২২ একর, উইষ্টেরিয়া টেক্সটাইল ৫.৩৩ একর, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল দুই একর, এপেক্স নিট কম্পোজিট ১১.৬২ একর, গ্রেটওয়াল সিরামিকস ৭.৩৮ একর, টেপিরবাড়ি মৌজায় ডিবিএল গ্রুপ ছয় একর, তেলিহাটি মৌজায় কুঞ্জু বিথি এক একর, আলিফ অটো ব্রিকস ৭০ শতাংশ, টেপিরবাড়ী মৌজায় চায়না বাংলা প্যাকেজিং এক একর, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যালস ৭৬ শতাংশ, এইচ এস অ্যাগ্রো দেড় একর, রেক্স অটো ব্রিকস এক একর ৭০ শতাংশ, টেংরা মৌজায় শিশুপল্লী প্লাস সাড়ে ১২ একর, মম পোলট্রি ৭০ শতাংশ ও ওয়ারবিট স্টিল বিল্ডিং দুই একর বনের জমি দখল করেছে। পেলাইদ মৌজায় সিসিডিভি পাঁচ একর, সাইটালিয়া জামান পোলট্রি দুই একর, মাওনা মৌজার মনো ফিড ২.২৫ একর, এইচ পাওয়ার লিমিটেড ৩৩ শতাংশ, হোম ডিজাইন ১.২২ একর ছাড়াও বিবিএস কেবল, দি সোয়েটার, ইকো কটন মিলস, সিটিসেল লিমিটেডও বনের জমি দখল করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলায় বনভূমি দখলে সবচেয়ে এগিয়ে পারটেক্স গ্রুপ। পারটেক্স কটন লিমিটেড সদর উপজেলার ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের বাহাদুরপুর মৌজায় সিএস ২৫৪, ২৮৯, ২৯৪ ও ৩০০ নম্বর দাগে ১১.৬৭ একর, পারটেক্স হোল্ডিংস লিমিটেড একই মৌজার সিএস ২০৮, ৫৮৫, ২০৮ ও ৫৮৬ নম্বর দাগে ৫.০৯ একর, আম্বার ডেনিম লিমিটেড আড়াইশ প্রসাদ মৌজায় আরএস ৮ থেকে ১৮ এবং ২৮ থেকে ৩২ নম্বর দাগে ২৬.২৪ একর মিলিয়ে ৪৩ একর বনভূমি দখলে রেখেছে। তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি পারটেক্স গ্রুপের কোনো কর্মকর্তা।

মণিপুর এলাকায় বোকরান মণিপুর মৌজায় সিএস ৪২৮ ও ৫৯৮ নম্বর দাগে ৬.৫৭ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করেছে সান পাওয়ার সিরামিকস লিমিটেড। এসব বনভূমি উদ্ধার করতে ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে উচ্ছেদ মামলা করা হয়।

বনভূমি দখল প্রসঙ্গে সান পাওয়ারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম ভূঞা বলেন, ‘কারখানার জমির এসএ ও আরএস রেকর্ড আমাদের নামে। কিন্তু শুধু গেজেটে নাম থাকায় বন বিভাগ ওই জমি তাদের দাবি করছে। কারখানাটি বিদেশি বিনিয়োগে স্থাপিত। বনের দাবি করা জমির সমপরিমাণ জমি অন্যত্র কিনে বনায়ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’ বোকরান মণিপুর মৌজায় সিএস ৫৯৮ নম্বর দাগে ফু-ওয়াং সিরামিক ও ফু-ওয়াং ফুডের দখলে রয়েছে ৪.৪০ একর সংরক্ষিত বনভূমি। ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উচ্ছেদ মামলা করে বন বিভাগ। কিন্তু ওই সময় দায়সারা মামলা করায় আজও জমি উদ্ধার হয়নি। এ প্রসঙ্গে ফু-ওয়াং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে বনের কোনো জমি নেই।’

এ ছাড়া প্যানাস অটোক্রিয়েশ গার্মেন্টস, ম্যাগডোনালস বাংলাদেশ, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনএজেড গার্মেন্টস বাংলাদেশ, ওয়ান্ডার ল্যান্ড টয়েস, বেন্টলী সুয়েটার, ওয়ান ডেনিম, ওয়ান স্পিনিং মিলস, এমআই ইয়ার্ন ডাইং, শরীফ বাড়ি খামার ও রেস্ট হাউস, ইপিলিয়ন স্টাইল, এটলাস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, এবি সিদ্দিক পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ, বেন ফিক্সস্টীল বিল্ডিং ডেভেলপমেন্ট, এসএম নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি কালেকশন, বাংলাদেশ মেইজপ্রডাক্ট, ইভিল টেক্স, তিতাস স্পিনিং, বেঙ্গল গার্মেন্টস, মালা পোলট্রি ফার্ম, মাসকাত পোলট্রি ফার্ম, টিএস ট্রান্সফরমার, ন্যাশানাল ফিড, মডার্ন ফিড, লিথি গ্রুপ, প্যারাগন পোলট্রি, স্কিন গ্রাফ, গর্ডন স্টিল মিলস, মোশারফ কম্পোজিট, প্যাকলাইন, আর্টিসান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিটি লিমিটেড, মিলেনিয়াম স্টিল মিলস লিমিটেড, কুইন্স পোলট্রি ফার্ম লিমিটেড, অমনী অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, ঢাকা ফিশারিজ, রেডিয়াম এক্সেসরিজ, নির্জনা অ্যাপারেলস, গোলাম কিবরিয়া মৎস্য খামার, ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন, সাহাবা ইয়ার্ন, এটিআই সিরামিক, গিভেন্সি ডেনিমস, খোরশেদ আলম অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, বেঙ্গল হরিকেন ডাইং প্রিন্টিং লিমিটেড, নেসলে বাংলাদেশ এবং আদি অ্যাগ্রো ফার্মের দখলে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বনভূমি।

কালিয়াকৈর সোহাগ পল্লী রিসোর্ট, চন্দ্রা বিটের কালামপুর এলাকার রাঙ্গামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট ও চন্দ্রার শিল্পী কুঞ্জ, কোকোলা ফুড প্রডাক্টস, কৌচাকুড়ি মৌজায় সিএস ৯৪২ নম্বর দাগে ১৫.০৫ একর বনভূমিতে ঘরবাড়ি বানিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। এসব বনভূমি উদ্ধার করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ মামলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাজীপুরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে হাজার হাজার একর বনভূমি জবরদখল হয়েছে। বন বিভাগ উচ্ছেদ মামলা করলেও নানা কারণে অভিযান এগোয়নি। বন বিভাগের পক্ষ থেকেও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত ১৭ এপ্রিল থেকে উচ্ছদ অভিযান শুরু হয়েছে। শ্রীপুর ও সদর উপজেলায় ৮.৭৯ একর বনভূমি উদ্ধার হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বন বিভাগের বক্তব্য:

বিবিএস কেবলের বনভূমি দখল প্রসঙ্গে শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘বনভূমি দখলে বন বিভাগের নতুন যে তালিকা করা হয়েছে সেটিতে বিবিএস কেবলসও রয়েছে। সেখানে উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উচ্ছেদ করে জমি পুনরুদ্ধার করা হবে।’

বনভূমি দখল প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুল হোসেন বলেন, ‘এসব জমি অনেক আগে দখল হয়েছে। গত কয়েক বছরে নতুন করে কোনো দখল হয়নি। এরই মধ্যে বন বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে শতাধিক বিঘা জমি উদ্ধার করে বনায়ন করেছে। তা ছাড়া দখল করা জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব জমি উদ্ধার করে বনায়ন করা হবে।’

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার বলেন, ‘দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ মামলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তালিকা ধরে উচ্ছদ কার্যক্রম চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটন বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রাকিবুল হাসান আহাদঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৭:১৬ পিএম
রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটন বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রাজশাহীর সিনিয়র সাংবাদিক এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার সুজাউদ্দিন ছোটনকে ফাসানোর জন্য চাদাবাজি ও যৌন হয়রানির মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে ১০ জুলাই রাত সাড়ে আটটায় চাঁদাবাজি মামলা এবং রাত সাড়ে নয়টায যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলা করেছে বলে জানা গেছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আলোচিত এই দুই মামলার মধ্যে চাঁদাবাজির মামলার বাদী নগরীর কুখ্যাত সুদ কারবারি, একাধিক চাঁদাবাজি ও সাইবার ক্রাইম অপরাধ মামলার আসামি আয়েশা আক্তার লিজা, তার
বিরুদ্ধে সাবেক একজন সংসদ সদস্যকে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সুদের টাকা খাটিয়ে সাদা স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাংক চেকের খপ্পরে ফেলে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই নারী। টাকা না পেলে আদালতে মামলা ঢুকে দিচ্ছেন। অন্তত ৩০ জন ব্যক্তি লিজার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে মামলার আসামি হয়ে এখন আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন।

অপর মামলাটির বাদী সাংবাদিক পরিচয় দানকারী তাজমিরা তাবাসসুম নামের এক নারী। তিনি যৌন হারানির মিথ্যা মামলা করে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতবছর এই নারীর দায়ের করা যৌন নিপীড়ন মামলায় আরো কয়েকজন সাংবাদিক আসামী হিসেবে এখনো আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। তাসমিরা তাবাসসুমের বাড়ি নগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকার ভদ্রা জামালপুর বলে জানা যায়।

এসকল নারীদের সাথে থানা পুলিশের সখ্যতা রয়েছে বলে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হয়রানি করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান ঘটনার বিস্তারিত জেনে বিষ্ময় প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সাজানো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আহবান জানিয়েছেন।

গোহালকাঠীর রাস্তার বেহাল দশা; দেখার কেউ নেই

রিয়াদ গাজী,ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩:৪৯ পিএম
গোহালকাঠীর রাস্তার বেহাল দশা; দেখার কেউ নেই

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের গোহালকাঠী গ্রামের একমাত্র রাস্তার অবস্থা বেহাল। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গোহালকাঠী গ্রামের হাজারো মানুষ।

জানা যায়, উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের নরউত্তমপুর-গোহালকাঠী প্রধান সড়ক গোহালকাঠী থেকে ভোটকেন্ড পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। গোহালকাঠি গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র রাস্তা। প্রায় ২০ বছর আগে৷ রাস্তায় ইট বিছানো হয়েছিল। কিন্তু এখন বেশিরভাগ ইটই মাটি থেকে উঠে খানা-খান্দ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই এ রাস্তা দিয়ে আর চলাচল করা যায় না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এ রাস্তার ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার দু’ধারের মাটি সরে গিয়ে রাস্তাগুলো ভেঙে পড়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি ও মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো ডুবে কাঁদা সৃষ্টি হয়। যার ফলে এ রাস্তা দিয়ে আর চলাচল করা যায় না।

অটোচালক হানিফের বাড়ি গোহালকাঠী। অটো চালিয়েই চলে তার সংসার। রাস্তা নিয়ে তার অভিযোগ, উপজেলার কত রাস্তা ঠিক হচ্ছে, কিন্তু আমাদের রাস্তা হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে মনে হয় আমরা এ দেশের জনগণ না। তিনি আরও বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে অটো বেশিরভাগ সময়ই টেনে নিতে হয়।

সুমন মিয়া, রিয়াদ গাজী, কুদ্দুস খান, জাকির হাং সহ স্থানীয়রা জানায়, গোহালকাঠী গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র রাস্তা হলো এটি। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায় ২০বছর পূর্বে এ রাস্তাটিতে ইট বিছানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাস্তাটি আর পাকা হয়নি। দুঃখের বিষয় গত তিন বছর ধরে রাস্তার বিভিন্ন অংশের ইট সরে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পরে। এমনকি গ্রামের মধ্যে রিক্সাওয়ালারাও আসতে চায় না।

এ বিষয়ে দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সুজাত শিকদার বলেন, এই মুহূর্তে কোনো বরাদ্দ না থাকায় রাস্তাটি কবে নাগাদ ঠিক করা হবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের মাথায় আছে। স্থানীয়দের দাবি বর্তমান উন্নয়ন বান্ধব সরকারের কাছে আবেদন জানাই অতি দ্রুত রাস্তাটি যেন সংস্কার করা হয়।

কোটা বৈষাম্যের বিরুদ্ধে সিলেটে শিক্ষার্থীদের ১ দফা আন্দোলন

সিলেট প্রতিনিধি মোঃ ফখর উদ্দিনঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৯:২৪ পিএম
কোটা বৈষাম্যের বিরুদ্ধে সিলেটে শিক্ষার্থীদের ১ দফা আন্দোলন

সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষাম্যেমুলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধীদের) জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে বিল পাস করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সিলেটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ১৪ জুলাই রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মশাল মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট পয়েন্টে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।

এম.সি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিনা বেগমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাকিব আহমদ, এম.সি কলেজের আয়শা আক্তার, লিডিং ইউনিভার্সিটির বুশরা সুহাইল, সিলেট সরকারি কলেজের সানি, সরকারি মদনমোহন কলেজের আল মাহমুদ, রাজু আহমদ, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সির মাশরুখ জলিল প্রমুখ সহ সিলেট বিভিন্ন কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃন্দ।
সমাপনী বক্তব্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সির শিক্ষার্থী তারেক আহমেদ বলেন, কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। স্মারকলিপিতে সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে শুধুমাত্র পিছিয়ে পড়া/ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম (সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ) আইন পাস এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন কালে যে মামলা করা হয়েছে তা তুলে নেয়ার দাবী জানানো হয়েছে। আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে অংশগ্রহণকালে ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা চেয়েছিলেন কিনা জানিনা। দেশ স্বাধীন করার পর স্বাভাবিক নাগরিক সুবিধা ব্যতিরেকে বাড়তি কোনো সুবিধা চেয়েছিলেন, এমনটি কোথাও পাই নি আমরা। এমনকি জীবিত আছেন এমন হাতেগোনা মুক্তিযোদ্ধারাও বাড়তি সুবিধা দাবি করছেন, এমন কিছু শুনছিও না আমরা। আমরা ইতিহাস পড়ে, জেনে, শুনে এতটুকু নিশ্চিত যে, এ ভূ-খন্ডের উপর তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের করা নানান সীমাহীন বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে ওনারা যুদ্ধে গিয়েছেন, জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আমরা তাদের সম্মান করি, তাদের যেকোনো সময়ের অসচ্ছলতা, অসুস্থতা, দুর্বলতার প্রেক্ষিতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার তাদেরকে ও তাদের পরিবারের পাশে থেকেছে, বিপদে-আপদে সহযোগিতা করছে। বর্তমান সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আরও সম্মানজনক অবস্থানে এসেছে। চিকিৎসা সহ জীবনধারণের প্রয়োজনে বাড়তি আরও সুবিধা সংযুক্ত হয়েছে।

এমতাবস্থায়, চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কিসের প্রেক্ষিতে, কোন স্বার্থে? এখন না মুক্তিযোদ্ধারা চাকরির প্রতিযোগিতায় নামবে, না তার ছেলেমেয়েরা চাকরিতে প্রতিযোগিতা করবে? ৩য় প্রজন্ম তথা নাতি-পুতিদের জন্য কোটাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ নাম দেওয়া কি আদৌ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানজনক দেখায়? এটাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ বলে মুক্তিযোদ্ধাদের করুণা/ দীন-দক্ষিণার পাত্র না করে কষ্ট করে ‘নাতি-পুতি কোটা’ নামে প্রচার করুন। এতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধারা অসম্মানের হাত থেকে রেহাই পাবে অন্তত।

এই অস্বাভাবিক কোটা ব্যবস্থা কত প্রজন্ম পর্যন্ত, কত বছর পর্যন্ত চলবে? এই কোটা কি এখন বৈষম্যের পর্যায়ে চলে যায়নি? এই কোটা ব্যবস্থার আড়ালে কি এখন অযোগ্য, অথর্বরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে না? আমরা সিলেটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। ১৮ তে আমরা ছিলাম, ২৪ সালেও আমরা রাজপথে আছি ইনশাআল্লাহ। এই দেশে সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের বাপ দাদার কোটায় চাকরী নয় তারা যেনো মেধার ভিত্তিতে চাকরী পায়।

রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটন বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ গোহালকাঠীর রাস্তার বেহাল দশা; দেখার কেউ নেই কোটা বৈষাম্যের বিরুদ্ধে সিলেটে শিক্ষার্থীদের ১ দফা আন্দোলন সাংবাদিক জুয়েল খন্দকারের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর বাবুর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ময়মনসিংহে জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ হওয়ার পথে সাইফুল ফিলিং স্টেশন; সিটি কর্পোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ ময়মনসিংহের বোররচর ইউনিয়নে চলছে রমরমা জুয়া খেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশে সড়কের শাহজাদার হুমকি ধামকির মোকাবিলা করবে সাংবাদিক সমাজ শেরপুরে পুলিশের এএসআই এর অঢেল সম্পদের পাহাড় আদালতের নির্দেশনায় তদন্ত করছে দুদক সাংবাদিকতায় দায়বোধের সীমানা এবং উইদাউট বর্ডার রাঙামাটি ছাত্রলীগের কমিটিতে অছাত্র বিবাহিত চাকরিজীবী টেন্ডারবাজ নিয়ে নতুন কমিটি গঠন ময়মনসিংহে মাদক মামলায় জামিনে এসে হাবিসহ দুই যুবকের রমরমা ইয়াবা ব্যবসা লুটপাট আর টাকা পাচারে কারা এগিয়ে “পারলে তারা গণমাধ্যমেরও কবর রচনা করতে চান” ময়মনসিংহের শুভ হত্যার মামলার ৬ আসামীর জামিন না মঞ্জুর করেছেন আদালত সিএমপি কমিশনার উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম যোগদান করলেন সাংবাদিকদের বিতর্কিত করায় লাকীর বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানী মামলার ঘোষণা- বিএমইউজে শেরপুরে পাহাড়ী ঢলে ৩ উপজেলার বাঁধ ভেঙ্গে কমপক্ষে অর্ধশত গ্রাম পানিবন্দি বিএমইউজে’র ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি সাঈদ খান সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া লায়লা কানিজ লাকী’র বক্তব্যে বিএমউজে’র নিন্দা; প্রতিবাদ সভা মানববন্ধনের ডাক লাকী‘র বেদবাক্যে অন্ধ বিশ্বাসীরা সাংবাদিকদের বিতর্কিত করতে বড়ই উৎসাহী বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন নওগাঁ জেলার সভাপতি খোরশেদ সম্পাদক হাবিব নির্বাচিত গোয়াইনঘাটে শ্যাম কালা ও রয়েলের নেতৃত্বে চলছে সীমান্তে চোরাচালান ব্যবসা গফরগাঁওয়ে বাঁশঝাড়ে কিশোরী প্রেমিকা ধর্ষণ প্রেমিককে গ্রেপ্তার মহানবী (সা.)-এর ঈদের প্রবর্তন ও বিদায় হজ্জের ভাষণ ছাগলকান্ডে আলোচিত মতিউরকে সরিয়ে যাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বাঙালির প্রতিটি অর্জনে আওয়ামী লীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত -শেখ হাসিনা ময়মনসিংহে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা আসামী গ্রেপ্তার; রহস্য উদঘাটনে কোতোয়ালী পুলিশ ছাগলই বিশাল সম্পত্তির ইতিবৃত্ত বের করে দিল রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের  দুদকের মুখোমুখি ৪৩টি দপ্তরের সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ময়মনসিংহে তরুনী গণধর্ষণ পূর্বক হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালী পুলিশ; গ্রেপ্তার-৩